ইসরাইলি আগ্রাসনের পাল্টা জবাব দিল ইয়েমেন


ইসরাইলের বিমান হামলার পর এবার পাল্টা শক্তিশালী পদক্ষেপ নিয়েছে ইয়েমেন। গত বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানী সানার আবাসিক এলাকা ও বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ইসরাইল অন্তত ১২টি বিমান হামলা চালায়। এতে আটজন নিহত ও দেড় শতাধিক মানুষ আহত হন।

এই হামলার পরই ইয়েমেনের হুথি নিয়ন্ত্রিত সেনাবাহিনী জানায়, তারা নতুন সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। এতে বহুমুখী ওয়ারহেডযুক্ত হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র “প্যালেস্টাইন-২” ব্যবহার করে তেলআবিবসহ ইয়াফা অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে। সেনাদের দাবি, এটি ইসরাইলের আগ্রাসন ও গাজায় চলমান হত্যাযজ্ঞের জবাব।

আরও পড়ুন : ইজরায়েলের পর্যটন এলাকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, আহত কমপক্ষে ৩২ 

এছাড়া ইয়েমেনি বাহিনী লোহিত সাগর ও আরব সাগর দিয়ে চলাচলকারী সব জাহাজ ও কোম্পানিকে নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করতে সতর্ক করেছে। তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, গাজার প্রতি সমর্থন ও দেশের প্রতিরক্ষার স্বার্থে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। ইসরাইল যদি অবরোধ ও আক্রমণ বন্ধ না করে, তবে সমুদ্রপথের যেকোনো সামরিক ও বেসামরিক জাহাজ হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।

অন্যদিকে স্থানীয় সূত্র জানায়, ইসরাইলি সেনারা অন্তত ২০টি যুদ্ধবিমান নিয়ে আক্রমণ চালালেও সানায় মাত্র ১২টি বিস্ফোরণ হয়েছে। ইয়েমেনি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আকাশে একাধিক স্তরের প্রতিরোধ গড়ে তুলে কয়েকটি যুদ্ধবিমানকে বোমা ফেলতে না দিয়েই ফিরতে বাধ্য করেছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজার ওপর ইসরাইলি আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে ইয়েমেন সমুদ্রপথে কৌশলগত অবরোধ আরোপ করে, যাতে সামরিক সরঞ্জাম ইসরাইলে পৌঁছাতে না পারে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে গাজার মানবিক বিপর্যয় ঠেকাতে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৬৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের বেশিরভাগ নারী ও শিশু। আহত হয়েছেন প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার মানুষ।

দৈনিক কথা / জোনায়েদ 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন